Search This Blog

Powered by Blogger.

Blog Archive

স্মার্টফোনের যাবতীয় সেন্সর

বর্তমানে মোবাইল ফোন খালি কথা বলা ও ছবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এইগুলা ছাড়াও মোবাইল ফোন অনেক এডভান্স কাজ করতে পারে। দৈনন্দিন জীবন কে আরো...

Sunday, April 1, 2018

invisible light

স্মার্টফোনের যাবতীয় সেন্সর

বর্তমানে মোবাইল ফোন খালি কথা বলা ও ছবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এইগুলা ছাড়াও মোবাইল ফোন অনেক এডভান্স কাজ করতে পারে। দৈনন্দিন জীবন কে আরো সহজ করতে মোবাইল ফোনে প্রচুর এক্সট্রা ফাংশনালিটি দেয়া হয়। আর এই কাজ গুলার জন্য লাগে সেন্সর। আজকে আমরা মোবাইল ফোনে ব্যাবহৃত কমজ সেন্সর গুলা সম্বন্ধেই জানার চেষ্টা করবো।
★Proximity Sensor:- স্মার্টফোনের সবচেয়ে বহুল ব্যাবহৃত সেন্সর মনে হয় এইটা ই। প্রায় প্রত্যেকটা স্মার্টফোনেই এই সেন্সর দেয়া থাকে।মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় যখন আমরা ফোনটা কানের কাছে নেই তখন ডিসপ্লের আলো নিভে যায়। আবার যখন কান থেকে দূরে আনি বা মুখের সামনে আনি তখন সয়ংক্রিয়ভাবে ডিসপ্লের আলো জ্বলে উঠে। অজ্ঞানবশত যেনো কথা বলার সময় ডিসপ্লেতে টাচ না লাগে এর জন্য এটা ব্যাবহার করা হয়। এই কাজটা করা হয় প্রক্সিমিটি সেন্সরের সাহায্যে।
প্রক্সিমিটি সেন্সর টা থেকে ক্রমাগতভাবে একটা আদৃশ্য আলো বিকিরিত হয়। ওই আলো যখন কোন কিছুতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে আসে তখন সে এই তথ্যটা সফটওয়্যার কে দেয়। সফটওয়্যার তখন ডিসপ্লে বন্ধ/চালু করে।
অনেক ফোনে একাধিক প্রক্সিমিটি সেন্সর ব্যাবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের Gesture কন্ট্রোল এর জন্য।
★Accelerometer:- এইটা ব্যাবহার করা হয় ফোনের ডিরেকশান বুঝার জন্য। মানে আমরা যখন অটো রোটেশান অন করে রাখি তখন দেখা যায় ফোন পোট্রেইট মোড এ ব্যাবহারের সময় ডিসপ্লে টা ও পোট্রেইট মোড এ থাকে, আবার লেন্ডস্কেপ মোড এ ফোন ঘুরালে ডিসপ্লে অটোমেটিক লেন্ডস্কেপ মোড এ চলে যায়। এছাড়াও গেম খেলার সময় ফোন মুভমেন্ট করে গেম এর কন্ট্রোলিং এর জন্য ও এইটা ব্যাবহৃত হয়।
মোবাইল ফোনের এক্সেলেরোমিটার কাজ করে মাইক্রো ইলেক্টো মেকানিকাল সিষ্টেম (MEMS) এর মাধ্যমে। এইটা মেকানিকাল এবং ইলেক্ট্রিক্যাল দুই পদ্ধতির একটা সমন্বয়ে কাজ করে। এর মাধমে এক্সেলেরোমিটার ফোনের কতটুকু নড়াচড়া করলো, কোন দিলে করলো এইগুলা পরিমাপ করতে পারে। আগে এইটা দ্বিমাত্রিক অক্ষে সীমাবদ্ধ থাকলেই বর্তমানে ত্রিমাত্রিক অক্ষে নড়াচড়া পড়িমাপ করতে পারে এটি।
★Gyroscope:- Gyroscope সেন্সারের কাজ মূলত এক্সেলারোমিটারের মতই কাজ করে। তবে এই সেন্সরের কাজ একটু এডভান্স। যেখানে Accelerometer ৩ অক্ষে কাজ করে সেখানে এইটা ৩৬০ ডিগ্রী কোনে কাজ করতে পারে। অর্থাৎ মোবাইল যেদিকেই ঘুরান প্রত্যেকটা কোন এই সেন্সর ডিটেক্ট করতে পারবে। বর্তমানে এই সেন্সরের ব্যাপক ব্যাবহার দেখা যায়। বিশেষ করে ত্রিমাত্রিক (3D) গেইম গুলা খেলার সময়, ৩৬০ ডিগ্রী ভিডিও/ছবি দেখার সময় এই সেন্সর কাজে লাগে। এইটা না থাকলে VR বক্স এ কিছু দেখেও মজা পাওয়া যায় না। VR বক্স এ ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও দেখার সময় আপনি যেদিকে তাকাবেন ভিডিওর ডাইরেকশন ও ঠিক ওইদিকেই পরিবর্তিত হবে। এইটা আপনাকে ম্যানুয়ালি করা লাগবে না।
★Pedometer:- প্যাডোমিটার ব্যাবহার করা হয় আপনি কতটা হাটলেন বা কতদূর হাঁটলেন তা নির্নয় করার জন্য। সাধারণত আমরা স্মার্ট ব্যান্ড বা স্মার্ট ওয়াচে এইটা দেখতে পাই। তবে বর্তমানে কিছু ফোনেও (হুয়ায়ুয়ে তে দেখেছি আমি) দেয় এউ সেন্সর।
এইটা মূলত ভার্টিক্যাল ডিরেকশন, ফরওয়ার্ড ডিরেকশন, সাইড ডিরেকশন এই তিনটা অক্ষে এ মোবাইল ফোনের নড়াচড়া কে পরিমাপ করে তারপর সেটার উপর ভিত্তি করে হিসাব করে যে আপনি কতো স্টেপ হাঁটলেন। এইটাকেও এক্সেলোমিটারের আপডেট ভার্শন বলা যায়।
★Magnetic Sensor:- ম্যাগনেটোমিটার মোবাইল ফোনে কম্পাস বা দিক নির্দেশক যন্ত্রের কাজ করে। যারা আমার মত দিক আউলাইয়া ফেলেন তাদের জন্য খুবই উপকারী এইটা। এর মাধম্যে উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম দিক গুলা দেখিয়ে দিবে।
কম্পাস কিভাবে কাজ করে আমরা সবাই জানি। এই সেন্সরে একটা চৌম্বক থাকে আর আমরা জানি যে চৌম্বক সবসময় উত্তর-দক্ষিন মেরু বরাবর থাকে। তাই আপনি মোবাইল যেদিকেই ঘুরান ওই চোম্বকের সাহায্যে মোবাইল ঠিকই দিক চিনতে পারবে।
★Ambiant Light Sensor:- ফোনের আশেপাশের পরিবেশের আলোর পরিমান মেপে তার সাথে ফোনের ব্রাইটনেস সমন্বয় করাই হচ্ছে Light সেন্সরের কাজ। অর্থাৎ এটার মাধ্যমেই অটো ব্রাইটনেস কাজ করে। বাহিরে গেলে যখন আলো বেশি থাকে তখন ডিসপ্লের ব্রাইটনেস ও বেশি লাগে ফোনের কন্টেন্ট দেখার জন্য আবার যখন আমরা বাসায় থাকি তখন কম আলো লাগে যেনো চোখে কম চাপ পরে এবং কিছু ব্যাটারি সেভ হয়। আর এইটা আমাদেরকে ম্যানুয়ালি করতে হয় যদি Light সেন্সর না থাকে। থাকলে কোন চিন্তা নাই অটো ব্রাইটনেস অন করে রাখলে ফোন নিজে নিজেই বুঝে নেবে কতোটুকু ব্রাইটনেস দরকার। মোবাইল ফোনের উপরে ফ্রন্ট ক্যামেরা বা স্পিকারের আশেপাশেই এটা থাকে।
Ambient Light Sensor মুলত কাজ করে একটা ফটো ডায়োডের মাধ্যমে যা সেন্সরের ভিতরে থাকে। এইটা এমন একটা ডিভাইস যে আলোর বর্ণালী গুলাতে প্রতিক্রিয়াশীল। এইটা প্রথমে আলোক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তর করে তারপর সেটা CPU তে পাঠায়। তারপর CPU সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্রাইটনেস এডজাস্ট করে নেয়।
★Fingerprint Sensor:- মোবাইল ফোনের বায়োমেট্রিক সিকিউরিটি সিষ্টেমের সবচেয়ে সহজ, নিরাপদ ও জনপ্রিয় পদ্দতি হচ্ছে এটি। এর মাধ্যমে ফোন আনলক করা, এপ আনলক/লক করা, বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক্যাল পেমেন্ট এর নিরাপত্তা, বিভিন্ন Gesture Control ইত্যাদি সুবিধা পাবেন।
এটি মুলত প্রথমে আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট সমন্ধে ডাটা কালেক্ট করে ওইটার প্যাটার্ন টা সেভ করে রাখে পরবর্তিতে ব্যাবহারের জন্য। পরবর্তিতে যখন আপনি ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর কোন কাজ করতে যান তখন মোবাইল আগের ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর সাথে মিলিয়ে দেখে। যদি মিলে তাহলে আপনি ফোনের এক্সেস নিতে পারবেন। না হলে পারবেন না।
কিভাবে সে ফিঙ্গারপ্রিন্ট আপনার আঙ্গলের ছাপ টা সেভ করলো এইটা নিয়া বললে আলাদা একটা লিখা লিখতে হবে।
★Barometer:- ব্যারোমিটার বায়োমন্ডলের চাপ পরিমাপ করে থাকে। এই চাপ পরিমাপ করে সে এইটা পরিমাপ পরে যে সমূদ্রতল থেকে আপনি কতটা উপরে আছেন। এর মাধমে আপনি কতটা উপরে উঠলেন, সিড়ি বাইলেন, ট্রিপ এ গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কতো উপরে আছেন (অক্সিজেনের পরিমান আন্দাজ করার জন্য) এইগুলা সম্বন্ধে একয়া ধারনা পাওয়া যায়ন এছাড়াও কোন ফোনে ব্যারোমিটার থাকলে সেই ফোনে GPS তুলনামূলক ভালোভাবে কাজ করবে। অনেক ফোনে এটা দেয়া হয় আবার বেশিরভাগ ফোনে সাধারণত এই সেন্সর দেয় না।
★Optical Heart Rate Sensor:- এটা কাজ করে আপনার হার্ট রেট বা হৃদস্পন্দন মাপার জন্য। ধরেন একটা অতি রূপবতী মেয়ে আপনার সামনে দিয়ে হাঁটছে, হঠাৎ ই সে চুল খুলে দিয়ে আবার চুল ঠিক করা শুরু করলো। তখন আপনি চাইলেই তাৎক্ষণিক ভাবে এটা দিয়ে আপনার হৃদকম্পন টা মেপে নিতে পারবেন। আবার জরুরী প্রয়োজনে কোন অসুস্থ মানুষের হার্ট রেট ও মাপতে পারবেন। তবে এইটা সম্পুর্ন নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি না বিধায় ডাক্তার রা এটাকে এখনো অতোটা এলাউ করেন না। সম্প্রতি স্যামসাং এর নতুন ফোন S9+ এ এই সেন্সর দেয়া হয়েছে।
হার্ট রেট পরিমাপের জন্য ফটোপ্লেথ্যাসমোগ্রাফি (Photoplethysmography) নামক একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ফটোপ্লেথ্যাসমোগ্রাফি হচ্ছে একধরনের অপটিকাল পদ্ধতি, যা রক্তের পেরিফেরাল সঞ্চালনে আয়তনের পরিবর্তন সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিতে ফিটনেস ব্যান্ড থেকে ত্বকে আইআর রশ্মি নির্গত হয়। ঐ রশ্মি পেশি, স্কিন পিগমেন্ট, শিরা এবং ধমনীর রক্তের মধ্যে নিমজ্জিত হওয়ার পরপরেই আবার বাউন্স করে ফিরে আসে। আইআর রশ্মি তীক্ষ্ণতা যখন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য টিস্যু থেকে রক্তের মাধ্যমে বেশি নিমজ্জিত হয়, তখন খুব সহজেই রক্তের ওঠানামা পরিমাপ করতে পারে এবং সেগুলোকে ফটোপ্লেথ্যাসমোগ্রাফি সেন্সরগুলোর মাধ্যমে হার্ট রেট হিসেবে প্রকাশ করতে পারে।
★Thermometer:- থার্মোমিটারের কাজ আমরা সবাই জানি। প্রায় প্রত্যেকটা আধুনিক ফোনেই থার্মোমিটার দেয়া থাকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে ফোনের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা পরিমাপ করার জন্যই থার্মোমিটার দেয়া হয়। তবে কিছু ফোনে ফোনের বাহিরের পরিবেশের তাপমাত্রা পরিমাপ করার জন্যও থার্মোমিটার দেয়া হয় যেনো ফোনের ভিতরের তাপমাত্রা মাপার সাথে সাথে বাহিরের পরিবেশের তাপমাত্রাও মাপা যায়।
আমরা জানি যে, তাপ প্রয়োগে যে কোন পদার্থ আয়তনে বৃদ্ধি পায়। থার্মোমিটার মূলত কাজ করে তাপের কারনে কোন ধাতুর আয়তনের বৃদ্ধির পরিমানের উপর অর্থাৎ কতটুকু বৃদ্ধি/হ্রাস পেলো ধাতুটা তার উপর। এক্ষেত্রে ধাতু হিসেবে পারদ ব্যাবহার করা হয়।
★Air Humidity Sensor:- এইটা আপনার আশেপাশের পরিবেশে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমান পরিমাপ করে। এতে করে আপনি বুঝবের পরিবেশ কতোটা আদ্র বা শুষ্ক আছে।
★Hall Sensor: হল সেন্সরের কাজ খুব একটা বেশি না। দেখা যায় অনেক ফোনে ফ্লিপ কাভার লাগালে কাভার যখন ডিসপ্লের কাছে যায় তখন ডিসপ্লে নিভে যায়, কাভার টা খুললে ডিসপ্লের আলো জ্বলে উঠে অটোমেটিক। এই টাইপের কাজ করার জন্যই মূলত হল সেন্সর ব্যাবহার করা হয়।
এইটা মূলত কাজ করে ম্যাগনেট এর মাধমে। কাভারে এক ধরনের ম্যাগনেট দেয়া থাকে যেটা ফোনের কাছে আসলে ফোনে থাকা মেটাল কে ডিটেক্ট করে (উল্টাটা ও হতে পারে) সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডিসপ্লের আলো নিভিয়ে দেয়।
★★★এই পোষ্টের উদ্যেশ্য দুইটা। প্রথমত সেন্সরের কাজ, কার্যপদ্ধতি এইগুলা সম্বন্ধে একটা বেসিক আইডিয়া দেয়া। আর শাওমি অনেক দিকে কার্পণ্য করলেও সেন্সরের দিকে এখনো খুব একটা কার্পণ্য করেনি। তবে কিছু নামি ব্র‍্যান্ড আছে (নাম বলা যাবেনা) তারা তাদের মিডরেঞ্জের ডিভাইস গুলায় সেন্সর নামেমাত্র দেয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সেন্সর তারা স্কিপ করে যায়। তাই সেন্সরের কাজ জানলে আপনি আপনার প্রয়োজনমত ফোন বাছাই করতে পারবেন।
Read More
invisible light

স্মার্টফোনের ডিসপ্লের খুঁটিনাটি

ব্যাক্তিগতভাবে আমার কাছে মনে হয় একটা স্মার্টফোনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস হচ্ছে এর ডিসপ্লে। কারন হিসেবে বলা যেতে পারে আপনার ফোনের CPU, GPU, যতই শক্তিশালী/দূর্বল হোক এর আউটপুট কিন্তু বেশিরভাগ আমরা ডিসপ্লেতেই পাই। বর্তমানে স্মার্টফোনে বিভিন্ন ধরনের ডিসপ্লে ব্যাবহার করা হয়। তারমধ্যে জনপ্রিয় কিছু ডিসপ্লে নিয়ে আজকে সংক্ষেপে বলবো। ডিসপ্লে সম্বন্ধে বুঝতে হলে এর টাইপ জানার আগে অবশ্যই Resolution ও PPI নিয়ে জানতে হবে।
★Display Resolution:- ডিসপ্লের রেজুলেশনের হিসেবে কয়েক ধরনের ডিসপ্লে দেখতে পাওয়া যায়। সব ধরনের ডিসপ্লেতেই অনেক অনেক গুলা ছোট্ট ছোট্ট পিক্সেল (Pixel- Picture Element) থাকে। প্রত্যেকটা পিক্সেলে আবার তিনটা করে সাব পিক্সেল থাকে। সাব পিক্সেল গুলা একটা লাল, একটা সবুজ এবং আরেকটা নীল হয়। আমরা জানি এই তিনটা মৌলিক রঙ দিয়ে যেকোন রঙ তৈরি করা সম্ভব। তাই প্রত্যেকটা পিক্সেল ই আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন রঙ দেখানোর ক্ষমতা রাখে। আধুনিক ভালো মানের ডিসপ্লে তে এই পিক্সেল এর গুলা আমরা খালি চোখে আলাদা কর‍তে পারি না। তবে আগের টিভি বা ক্যালকুলেটর এর স্ক্রিন এ দেখলে পিক্সেল গুলা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এবার রেজুলেশন নিয়ে সংক্ষেপে বলা যাক-
★HD Display:- যেসব ডিসপ্লের রেজুলেশন (1280 x 720) ওইগুলাকে HD বা High Definition ডিসপ্লে বলে।
★Full HD Display:- যেসব ডিসপ্লের রেজুলেশন (1920 x 1080) ওইগুলাকে হচ্ছে Full HD ডিসপ্লে।
★QHD Display:- (2560 x 1440) এই রেজুলেশনের ডিসপ্লে কে বলা হয় QHD বা Quad HD ডিসপ্লে। অর্থাৎ চার টা HD ডিসপ্লেতে যেই পরিমান পিক্সেল থাকে (৩৬৮৬৪০০ টা) একটা Quad HD ডিসপ্লেতে সমপরিমাণ পিক্সেল থাকে।
4K Display:-
বর্তমান সময়ে আবার ডিসপ্লেতে দৈর্ঘ্য প্রস্থের অনুপাতের ভিন্নতা (১৮:৯, ১৯:৯ ইত্যাদি) কারনে দেয়া যায়। এর জন্য রেজুলেশনেও নতুন কিছু হিসাব যোগ হয়েছে। যেমন HD+, FHD+ ইত্যাদি। ডিসপ্লের রেজুলেশন যতো বেশি হবে ডিসপ্লে ততো শার্প হবে।
★★★PPI:- PPI মানে হচ্ছে Pixel Per Inch অর্থাৎ ডিসপ্লের প্রতি ইঞ্চিতে কতোটা পিক্সেল আছে এইটা বুঝানোর হয় PPI দিয়ে। PPI ডিসপ্লের সাইজ ও রেজুলেশন এই দুইটা জিনিসের উপর নির্ভর করে। এবার আমরা একটা সাধারন হিসাব শিখি যে PPI টা হিসাব করে কিভাবে? ধরা যাক একটা ৫" সাইজের ডিসপ্লেতে FHD রেজুলেশন দেয়া হয়েছে। তার মানে এর দৈর্ঘ্য তে পিক্সেল আছে ১৯২০ টা, আর প্রস্থে পিক্সেল আছে ১০৮০ টা। এবার PPI হিসাব করতে হলে আমাদের ডিসপ্লে এর কোণাকোণি কত পিক্সেল আছে এইটা বের করতে হবে। এর জন্য আমাদের একটু ত্রিকোণমিতির অংক কষতে হবে। ডিসপ্লের কোনাকোনি যদি আমরা একটা রেখা কল্পনা করি তাহলে সেটা হবে অতিভুজ এবং এটি ৫"।
(১৯২০*১৯২০)+(১০৮০*১০৮০)=৪৮৫২৮০০, এইবার এই যোগফলটার (৪৮৫২৮০০) বর্গমূল বের করে সেই বর্গমূল কে ৫ (ডিসুলে যতো ইঞ্চি) দিয়া ভাগ করতে হবে। অর্থাৎ ২২০২.৯১÷৫=৪৪০.৫৮(৪৪১) প্রায়। অর্থাৎ এই এই ডিসপ্লে টার প্রতি ইঞ্চিতে ৪৪১ টা পিক্সেল আচ্ছে। অর্থাৎ এইটার PPI 441।
সহজে আরেকবার বললে, রেজুলেশন দুইটার বর্গের যোগফোল বের করতে হবে। ওই যোগফলের বর্গমূল বের করতে হবে। বর্গমূলকে ডিসপ্লের সাইজ দিয়ে ভাগ করতে হবে। যেই ভাগফল পাওয়া যাবে ওইটাই হবে PPI বা Pixel per inch. PPI কম হলে ফোনের বিভিন্ন কন্টেন্ট বিশেষ করে টেক্সট গুলা ভালোভাবে ফুটে উঠে না। PPI বেশি হলে সব কিছুই শার্প দেখা যায়।
♠ডিসপ্লে টেকনলজির উপর ভিত্তি করে বেশ কয়েক রকম ডিসপ্লে হয়-
★LCD Display:- LCD এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Liquid Crystal Display। বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ফোনেই এই টাইপের ডিসপ্লে দেয়া হয়। মূলত মোবাইল ফোনে দুই ধরনের LCD ব্যাবহার করা হয়। LCD ডিসপ্লেতে চার টা স্তর থাকে। সবচেয়ে নিচের স্তর থেকে আলো আসে আর সবচে উপরে কালার ফিল্টার থাকে। আর মাঝে দুইটা পোলারাইজ ফিল্টার থাকে।
*IPS LCD Display:- LCD ডিসপ্লের মধ্যে IPS LCD ডিসপ্লে সবচেয়ে ব্যাবহৃত। IPS এর পুর্নরুপ হলো In-Plane Switching. মিডরেঞ্জের ফোন থেকে শুরু করে কিছু কোম্পানির ফ্ল্যাগশিপে পর্যন্ত এই ডিসপ্লে ব্যাবহার করা হয়। একদম ন্যাচারাল কালার, এক্সট্রিম ভিউইং এঙ্গেল, বেটার কন্ট্রাস্ট দিতে পাতে এই ডিসপ্লে। প্রায় ১৭০-১৭৫ ডিগ্রী কোণেও এই ডিসপ্লেতে কোন নেগেটিভিটি দেখা যায় না। এছাড়াও বাস্তবসম্মত কালার দেয় এইটা। অতিরিক্ত কালারফুল ও না, আবার ডাল কালার ও না। এই ডিসপ্লের ব্রাইটনেস ও বেশি থাকে তাই রৌদ্রে বা অনেক উজ্জ্বল আলোকিত জায়গায় ও এই ডিসপ্লেতে কন্টেন্ট দেখতে তেমন অসুবিধা হয় না। এই ডিসপ্লের পুরুত্ব কম হওয়ায় ফোন ও স্লিমভাবে তৈরি করা যায়। তবে এইটার নিচের দিকে আলো পুরুটা সবসময় জ্বলে থাকে। তাই AMOLED ডিসপ্লে এর তুলনায় এইটা বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে।
*‎TFT LCD Display:- এইটা অনেক পুরানো প্রযুক্তির ডিসপ্লে। ডিজিটাইজার থেকে এইটা স্ক্রিন এর মাঝে কিছুটা ফাকা থাকে, তাই মনে হয় ডিসপ্লে টা কেমন একটু নিচের দিকে আছে। কালার খুব একটা ভালো পাওয়া যায় না, এই ডিসপ্লের ভিউইং এঙ্গেল খুব খারাপ হয়ে থাকে। একটু পাশ থেকে তাকালেই ডিসপ্লে নেগেটিভ দেখা যায়। আবার এই ডিসপ্লে পাওয়ার ও খরচ করে বেশি। সাধারণত বাজেট ফোনে বা একদম ই কমদামী ফোনে এই ডিসপ্লে ব্যাবহার করা হয়। এই ডিসপ্লে IPS ডিসপ্লের তুলনায় তুলনামূলক মোটা। তাই এই ডিসপ্লেযুক্ত ফোন ততটা স্লিম হয় না।
★AMOLED Display:- AMOLED এর পুর্নরুপ হলো Active Matrix Organic Light Emitting Diode. এমোলেড ডিসপ্লের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এইটার প্রত্যেকটা পিক্সেলের আলাদাভাবে জ্বলা বা নিভার ক্ষমতা আছে। অর্থাৎ যেই পিক্সেল গুলা জ্বলার দরকার সেগুলা জ্বলবে বাকিগুলা জ্বলবে না। এইটার কারনে সুবিধা পাওয়া যায় তিনটা। প্রথমত, যেহেতু অপ্রয়োজনীয় পিক্সেল গুলা জ্বলে না তাই এতে ব্যাটারি সেভ হয়। দ্বিতীয়ত, অলোয়েজ অন ডিসপ্লের সুবিধা পাওয়া যায়। তৃতীয়ত, কালো সবচেয়ে গভীরভাবে প্রকাশ পায় এতে। কারন কালো রঙ যেই পিক্সেল গুলায় থাকে ওইগুলা জ্বলেই না, যেই জিনিসের কোন আলোই নেই এর থেকে কালো নিশ্চই কিছু হতে পারে না। সোজা কথা এমোলেড ডিসপ্লেতে পাবেন সবচেয়ে ডিপ ব্ল্যাক কালার। এই জিনসটা দেখতে জোশ লাগে আমার। এছাড়াও এমোলেড ডিসপ্লে তে কালার খুবই সুন্দর হয়। দেখতে খুবই সুন্দর হয় এই ডিস্পলে। IPS ডিসপ্লের চেয়েও এই ডিসপ্লে চিকন হয় তাই এই ডিসপ্লে যুক্ত ফোন গুলা অনেক স্লিম করা সম্ভব হয়। তবে এইটার Sunlight visibility IPS LCD এর তুলনায় খারাপ হয়ে থাকে সাধারণত।
AMOLED ডিসপ্লের আরেকটা উন্নত সংস্করণ হচ্ছে Super AMOLED Display. সাধারন AMOLED এর চেয়ে এইগুলা আরো কালারফুল ও শার্প হয়ে থাকে। যেকোন কন্টেন্ট দেখতেও খুব সুন্দর লাগে এই ডিসপ্লেতে। বাজারের সবচেয়ে দামি ডিসপ্লে এইগুলা। স্যামসাং এর ফোন গুলায় সাধারণত এই ডিসপ্লে ব্যাবহার করা হয়।
★OLED Display:- OLED এর পুর্নরুপ হলো Organic Light Emitting Diode. OLED ডিসপ্লে মূলত AMOLED ডিসপ্লের মতই কাজ করে। এইটায় ও ডিপ ব্লাক কালার দেয়া যায় সাথে অন্য কালার গুলাও বেশ সুন্দর ভাবে ফুটে উঠে। ভিউইং এংগেল ও ভালো। মোটকথা সব দিক দিয়ে প্রায় পারফ্যাক্ট ডিসপ্লে।
★Retina Diaplay:- রেটিনা ডিসপ্লে ব্যাবহার করা হয়ে থাকে অ্যাপলের ফোন বা ট্যাবলেট এ। নাম আলাদা হলেও এইটা মূলত IPS ডিসপ্লের প্রযুক্তিতেই কাজ করে। তবে এইটার স্পেশালিটি হচ্ছে খালি চোখে এইটার পিক্সেলগুলো আলাদাভাবে দেখা যায় না। এইখানে হয়তো অ্যাপলের নিজস্ব কিছু টুইক থাকতে পারে। আর IPS এর মত একুরেট কালার, দূর্দান্ত ভিউইং এঙ্গেল তো থাকছেই। তবে Ratina Display ছেড়ে সম্প্রতি অ্যাপল OLED ডিসপ্লের দিকে ঝুঁকছে।
[এই যায়গাটা বোনাস]
প্রায় সব স্মার্টফোনেই ইনপুট দেয়ার জন্য মূলত টাচ ব্যাবহার করা হয়। সাধারণত এই টাচস্ক্রিন দুই ধরনের হয়-
★Resistive Touchscreen:- এ ধরনের টাচস্ক্রীনে দুটি স্তর থাকে। প্রথম ও ২য় স্তরের মাঝে ফাকা স্থান থাকে। প্রথম স্তরে চাপ পড়ার ফলে মাঝের ফাকা অংশটি বেকিয়ে গিয়ে ২য় স্তরে চাপ পড়বে। এবং তারপর মোবাইলের প্রসেসরে সংকেত পাঠাবে। আর এভাবেই এই টাচ কাজ করে। এই টাচস্ক্রিনে আঙ্গুল বাদেও যেকোন কিছু দিয়ে টাচ করে ব্যবহার করা যায়। এই টাচ আর এখন ব্যাবহার করা হয় না। শুরুর দিকের টাচফোন গুলায় এই টাইপের টাচ ব্যাবহার করা হতো। ওইগুলার সাথে আবার ছোট্ট একটা পেন্সিলের মত দিয়া দিত।
★Capacitive Touchscreen:-এ ধরনের টাচ স্ক্রিনে শুধুমাত্র মানুষের হাতের স্পর্শের মাধ্যমেই কাজ করা যায়। এটির ডিসপ্লেতে স্পর্শ করার সাথে সাথেই ইলেক্ট্রোস্টাকিক ফিল্ড তৈরী হয় এবং দ্রুত প্রসেসরে সিগনাল পৌছানোর মাধ্যমে কাজ করে।
বর্তমানে প্রায় সব স্মার্টফোনেই Capacitive Touchscreen ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই টাইপের টাচ ব্যাবহার আরামদায়ক। আর টাচ অনেক স্মুথ ও একুরেট হয়।
সামনে ইনশাআল্লাহ ডিসপ্লে প্রটেকশন নিয়ে কথা হবে।
Read More